ধরাছোয়ার বাহিরে বটিয়াঘাটা’র অনলাইন ক্যাসিনো মাষ্টারমাইন্ড’রা, জনমনে প্রশ্ন প্রশাসন ও দু’দক নিয়ে

সেখ রাসেল, ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চলছে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা। যার ফলে যুবক যুবতীরা পড়ার টেবিল রেখে ঝুকে পড়েছে পড়ছে ক্যাসিনো ব্যবসায়। বর্তমান বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে কয়েকজন ছিটকে ক্যাসিনোকে গ্রেফতার করতে পারলেও এক অজানা রহস্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না অনলাইন ক্যাসিনো মাষ্টারমাইন্ড’রা। তারা শুথু যুব সমাজ নয় বরং তারা দেশ ও জাতির শত্রু।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জনের ভাষ্য ও তথ্যমতে বটিয়াঘাটা উপজেলার বালিয়াডাংগা উইনিয়নের ফুলাবাড়ী গ্রামের ক) মোঃ ওহিদ শেখ এর পুত্র মোঃ ফজলে রাব্বি, খ) মোঃ আজীজুল সরদার এর ছেলে মোঃ সোহেল সরদার এবং গ) হাটবাড়ী গ্রামের সবুরের ছেলে রাকিব ও সাকিব এবং ঘ) বালিয়াডাংগা গ্রামের জিয়ারত মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা, ঙ) একই গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে ওমর ফারুক ও সিরাজের ছেলে সোহেল, চ) আঃ রহমান এর পুত্র মোঃ শামীম পাড়, ছ) ভাতগাতী গ্রামের মনিরুল হক এর পুত্র তাসফিকুর রহমান সাগর, জ) শামীম শেখ সহ অনেকেই অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ টাকা ও সম্পদ করে রাতারাতি গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল গাড়ী বাড়ি।

ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ মহল বিষয়টি নজর এনেছেন। অনলাইন জুয়ায় শতশত কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠা এদের মধ্যে কিছুদিন আগেও কেউ ছিলো নাপিত আবার কেউ ছিলো দিন মজুর। হঠাৎ করে গাড়ী বাড়িরসহ অগনিত সম্পদ হওয়ার কারণে তারা এলাকায় যেমন মাদক কারবার তেমনই নারী সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে এলাকার সুশীল সমাজ।
সম্প্রতি গতো ১৮ ই মার্চ রাতে যৌথ বাহিনির বিশেষ অভিযানে এই অনলাইনে ক্যাসিনোর ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু এই ক্যাসিনোর গডফাদর যারা তারা গ্রেফতার না হওয়ার কারণে এলাকায় নতুন করে চলছে এক রমরমা জুয়ার আসর। তাতে যুব সমাজ একদিকে যেমন টাকার নেশায় অন্যদিকে মাদকের নেশায় এই ছোবলে পড়েছে। এ থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে কিছু ব্যক্তিদের ভাষ্য তারা যদি জনসম্মূখে এসে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে তাহলে মিথ্যা মামলা হামলা সহ নানাবিধ ভয়ে তারা সামনে আসেনা। অনেক অনুরোধের পর তারা জানায়, এক শ্রেণির বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রশাসনের বড় বড় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছত্র ছায়ায় এগুলো করে থাকে। তাদের ভাষ্য প্রশাসন আমাদের কেনা।

এদের এমন বেআইনী কথাবার্তায় মনে হয় এখানে তাদের সামনে কেউ নেই। বিষয়টি প্রশাসনের জন্য ইজ্জ্বতের প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। তাদের কথা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে সমাজ ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়তে সমায় লাগবে না। তবে তাদেরকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নজরদারিতে রাখছেন বলে জানা যায়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে চলছে এসব তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে রয়েছে অজানা আশঙ্কা।

একটি সূত্র থেকে জানাগেছে, এই গডফাদাররা হচ্ছে মাস্টারমাইন্ড এবং অনলাইন ক্যাসিনোর বাংলাদেশের এজেন্ট। তাদের কাছে আছে কয়েক শত বিকাশ এজেন্ট সিম এবং নগদ এজেন্টসহ মাস্টার সিম যা দিয়ে প্রতিনিয়ত তারা ক্যাসিনোর টাকা লেনদেন করে থাকে। শুধু তায় নয় এদেশের কিছু সরকারি তথ্য পাচারেও এরা জড়িত। জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। তাছাড়া তারা অনলাইন হ্যাকার বলেও অনেকে ধারণা করে থাকেন। যে কারণে তারা রাতারাতি হঠাৎ আলাউদ্দীনের চেরাগের মতো কোটিকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। জনমনে প্রশ্ন এর সাথে জড়িতদের ধরতে কি প্রশাসন অপারগ নাকি এসেবের ভাগ তারাও পায়। যুব সমাজকে বাচাতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দিকে মনোযোগী হতে এবং এলাকার পরিবেশ রক্ষার্থে আশু প্রশাসনের উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *