ঝিনাইদহে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে কৃষকের মাল্টা বাগান কেটে দেওয়ার অভিযোগ-

সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সংবাদদাতা –
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের সোনারদাইড় গ্রামে ৫ বছরের জন্য লিজ নেওয়া জমিতে চাষ করা ১৫০টির বেশি ধরন্ত মাল্টা ও পেয়ারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সেনা সদস্য মো. আবু হানিফের বিরুদ্ধে। কৃষক বিপুল হোসেন দাবি করেন, এই ঘটনায় তার অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিটি হানিফের ভাই মোশারেফ ও মা ফাতেমার কাছ থেকে ৫ বছরের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছিলেন বিপুল হোসেন। চুক্তির ৩ বছর পার হলেও বাকি ২ বছর বাদ রেখেই হানিফ জমি দখলে নিতে চেয়েছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে থানায় ও সেনা ক্যাম্পে একাধিকবার সালিশ হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হয়েছিল— বাগানের ধরন্ত মাল্টাগুলো বিক্রি করে জমি ছেড়ে দেবেন বিপুল। কিন্তু সিদ্ধান্ত অমান্য করে হানিফ তার স্ত্রী ও লোকজন নিয়ে এসে দিনে-দুপুরে গোড়া থেকে সব গাছ কেটে দেন বলে অভিযোগ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিপুল হোসেন বলেন, প্রতিটি গাছে ৫০-৬০ কেজি করে মাল্টা ছিল। আর এক মাস পরেই ফল বিক্রির উপযোগী হতো। হঠাৎ করে সব কেটে দিয়েছে। আমি একজন দিনমজুর, এই ক্ষতি আমি কীভাবে কাটিয়ে উঠব?

বিপুলের ভাতিজা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিতে গেলে হানিফের লোকজন তাকে দা দেখিয়ে ভয় দেখায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, হানিফ চাকরিরত অবস্থায় জমিটি তার মা-বোন ও ভাই মিলে বৈধভাবে লিজ দিয়েছেন। পরে হানিফ নিজে মালিকানা দাবি করে বিপুলকে জমি ছাড়তে চাপ দেন। সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তিনি নিজেই গাছ কেটে ফেলেন।

ঘটনার পর কাতলামারী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গাছ কাটা হয়েছে, আমরা ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন সেনা সদস্য হয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে এমন কাজ প্রত্যাশিত নয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি এলাকাবাসীর সহানুভূতি ও ন্যায়বিচারের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *