নয় বছর ধরে পাখিদের অভিভাবক কোটচাঁদপুরের আলী শেখ
সাইফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সংবাদদাতা –
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরে প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য—বিদ্যুতের তার, দোকানের ছাউনি ও ভবনের ছাদে জড়ো হয় শত শত শালিক পাখি। তাদের কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আর সেই পাখিদের অপেক্ষার প্রহর ফুরোয় এক পরিচিত মুখের আগমনে—তিনি মোহাম্মদ আলী শেখ।
গত নয় বছর ধরে নিঃস্বার্থভাবে প্রতিদিন পাখিদের খাওয়াচ্ছেন আলী শেখ। নিজের ‘মমতা হোটেল’ থেকে বেঁচে যাওয়া খাবার কিংবা না থাকলে নিজে রান্না করে, কখনো কিনে এনে খাওয়ান শত শত পাখিকে। প্রতিদিন সকালবেলা পুরোনো কলেজ হোস্টেলের সামনে ছড়িয়ে দেন খাবার। পাখিরাও যেন তার ডাকে সাড়া দিয়েই ছুটে আসে।
৫৫ বছর বয়সী আলী শেখ সলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২১ বছর ধরে হোটেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আলী শেখ জানান, সারা দিনের হোটেল শেষে কিছু খাবার জমে যায়। তা ফেলে না দিয়ে সকালে পাখিদের দিই। এতে দৈনিক এক থেকে দেড় শ টাকা খরচ হয়। কোনো দিন খাবার না থাকলে নিজের হাতেই পরোটা বানিয়ে দিই।
তার সহকর্মী ফরিদ হোসেন বলেন, “আমি ১৬ বছর ধরে হোটেলে কাজ করছি। গত ৯ বছর ধরে দেখছি, আলী ভাই নিয়ম করে পাখিদের খাওয়ান। আগে কম পাখি আসত, এখন কয়েক শ’ আসে—বিশেষ করে শীতকালে।
এ প্রসঙ্গে কোটচাঁদপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজেও গিয়ে দেখেছি। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজে এমন উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়।
আলী শেখ বলেন, এটা এখন আমার জীবনের অংশ। যতদিন পারি, ততদিন পাখিদের খাওয়াতে চাই—এটাই আমার শান্তি।

