ছাত্রলীগ সভাপতি সুমনের নেতৃত্বে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে গ্রেফতার ৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা:
কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৫) ধর্ষণ এবং এর ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সুমন নেতৃত্ব দেন। ইতোমধ্যে সুমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ চারজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গতকাল বিকালে মুরানগর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক একটি মামলা করেন। এর আগে, শুক্রবার মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে আসামি করে একই থানায় ধর্ষণ মামলা করেন তিনি।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের ওই নারীকে ধর্ষণ এবং এর ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় গত শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন ওই নারী। মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে (৩৮) গতকাল ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেনÑ বাহেরচর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে মোহাম্মদ আলী সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান আলী, আলম মিয়ার ছেলে মো. আরিফ ও তালেম হোসেনের ছেলে মো. অনিক। এই চারজনকে ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ধিক্কারজনক এ কা-ের প্রতিবাদে গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন দল ও সংগঠন নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে। এ ছাড়া নারীর বিবস্ত্র ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রধান আসামি ফজর আলীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চলছে তোলপাড়। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্যাতনের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসেন ওই নারী। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফজর আলী ওই নারীর বাবার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে টোকা দেন। এ সময় দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে ফজর আলী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর একাধিক প্রতিবেশী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়িতে অনেক শব্দ হচ্ছিল। এ সময় তারা ছুটে গিয়ে দেখতে পান দরজা ভাঙা। পরে তারা ওই নারীকে উদ্ধার করেন। এ সময় কিছু লোক ভিডিও করতে থাকেন। পরে তারা বুঝতে পারেন ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তখন লোকজন ফজর আলীকে মারধর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় ফজর আলী। পরে শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী নারী মুরাদনগর থানায় মামলা করলে শনিবার ওই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়।
মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় মামলা করার পর পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। পাশাপাশি ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামি ফজর আলীকে ধর্ষণের অভিযোগে এবং অন্যদের ভিডিও ধারণ ও ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. নাজির আহম্মেদ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনায় অভিযুক্ত ফজর আলী এবং ভিকটিমকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

