বাগেরহাটে সরকারি হাসপাতালে ডায়েরীয়া রোগীবেড়েই চলেছে বিশুদ্ধ পানি স্যালাইনের তীব্র সংকট, ফার্মেসিতেও মিলছে না

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারি হাসপাতালে ডায়েরীয়ার প্রাদুর্ভাবে দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ঈদুল ফিতর থেকে গত ৬ দিনে শিশু, বৃদ্ধ রোগীরা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৬০ জন ডায়েরীয়া রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। কলেরা স্যালাইন সংকটে হাসপাতাল রোগীদের বাহির থেকে কলেরা স্যালাইন ও খাবার স্যালাইন কিনে আনতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ খাবার পানিও নেই গোটা হাসপাতালে এ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে ভর্তিকৃত রোগীরা।
সরেজমিনে ৫এপ্রিল শনিবার খোজ নিয়ে জানা গেছে,উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে তীব্র গরমে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৬ দিনে ১৬০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও বৃদ্ধ।
ডায়েরীয়া রোগে আক্রন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ভাইজোড়া গ্রামের বজলু খান (৫৫), পশ্চিম সরালিয়া গ্রামের বৃদ্ধ মোস্তফা শেখ (৭০), উত্তর সরালিয়া গ্রামের শিশু আলফি (১০),বদনীভাংঙ্গা গ্রামের লাইজু আক্তার (২৫), চুমকী আক্তার (১৬), আব্দুল্লাহ (১৩ মাস) আব্দুল আলিম (৪) ফাতেমা (৩), কহিনুর বেগম (৫০), ছালমা আক্তার (২২) ছবুর হাওলাদার (৪৩), নুরুন্নাহার বেগম (৫৩), জাহানারা ব্গেম (৪০), সাদিয়া (১৯), কহিনুর খাতুন (৪৫) সহ ১৫০ জন ডায়েরীয়া রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে আবার কিছু সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরছেন।
কথা হয়েছে চিকিৎসারত মোস্তফা শেখ, বজলু খান, জাহানারা বেগমসহ একাধীক রোগীরা বলেন, হাসপাতালে খাবার পানি নেই, দুই একটি স্যালাইন দিলেও অধিকাংশ রোগীদের কলেরা স্যালাইন এমনকি খাবার স্যালাইন পর্যন্ত টাকা দিয়ে তাদের বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ডাক্তার লিখে দিয়েছেন বাহির থেকে কিনে আনতে হবে হাসপাতারে স্যালইন নেই। এ রকম অভিযোগ রয়েছে একাধিক রোগীদের।মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নাদিরুজ্জামান আকাশ বলেন, ‘স্যালাইনের সংকট চলছে। আমরা হিমশিম খাচ্ছি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা চাহিদা পাঠাই। কিন্তু খুবই নগণ্য পরিমাণ সরবরাহ দেওয়া হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকট কেটে যাবে।’

ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপসো, ওরিয়ন, লিবরা ও পপুলার নামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইঞ্জেক্টেবল স্যালাইন সরবরাহ করে। কিন্তু গত তিন মাস ধরে তারা চাহিদা অনুযায়ী স্যালাইন দিচ্ছে না। ফলে ফার্মেসিগুলোতেও এসব স্যালাইনের সংকট চলছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিলকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, কলেরার স্যালাইন হাসপাতারে পর্যাপ্ত সরবারহ না থাকায় রোগীদের বাহির থেকে কিনতে হচ্ছ্।ে যে কারনে সাময়িক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের। এক মাস পূর্বে স্যালাইনের চাহিদা দেয়া হয়েছে। খাবার পানির সংকটের বিষয়ে তাদের নতুন ভবনের কাজ হওয়ার কারনে তিনটি ফিল্টারের দুটিতেই বৃষ্টির পারি সংরক্ষন করা যায়নি। একটির পানি তাও শেষ হয়ে গেছে পূনরায় বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত খাবার পানি সংকট কাটছেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *