সর্বত্র ভোটের আলোচনা
অনলাইন ডেস্ক: সারা দেশে চলছে ভোটের আলোচনা। ঈদুল ফিতর উদ্যাপনে রাজনৈতিক নেতারা নিজ নিজ সংসদীয় আসনে অবস্থান করার কারণে এ আলোচনা এখন তুঙ্গে। রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান ও ঈদ উদ্যাপন উপলক্ষ করে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা অংশ নিয়েছেন নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে। তাঁদের এ আনুষ্ঠানিক গণসংযোগের সঙ্গে ছিল সাধারণের মধ্যে ভোট আসলে কবে হবে তা নিয়ে নানা আলোচনা, জল্পনাকল্পনা। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে শহর-বন্দর, গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার নির্বিশেষে সর্বত্র চায়ের দোকানে, বন্ধু আড্ডায় ঝড় উঠেছিল নির্বাচনি আলোচনার।
এবারের ঈদে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করেছেন। তাঁরা নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগসহ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে।
স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি-এ বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। ’ তাঁর এ বক্তব্যের বিচার-বিশ্লেষণ ছিল আলোচনার মূল বিষয়।
গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি কখনো বলেনি আগে নির্বাচন, পরে সংস্কার।
এটা যদি কেউ বলে থাকে, তাহলে এটা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা বলেছি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ন্যূনতম যে সংস্কার প্রয়োজন, সেটা করতে হবে। কারণ, এ সংস্কারের প্রথম দাবি ছিল বিএনপির। ’
এবার ঈদের ছুটিতে বিভাগীয় শহর থেকে জেলা-উপজেলায় বন্ধুবান্ধব, পাড়াপড়শি, আত্মীয়স্বজনের দেখাসাক্ষাতের সময় গল্পগুজব-আলোচনায় ছিল সংসদ নির্বাচনে ভোটের তারিখ কবে? দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পেয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানতে চেয়েছেন কখন যাত্রা করবে নির্বাচনি ট্রেন? নেতারাও কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে।
কেউ কেউ বলছেন, অপেক্ষা করতে হবে। আর কিছুদিন গেলেই চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে। নেতারা কর্মীদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি ভোটের জন্য ঘরে ঘরে গণসংযোগ করার নিদের্শনাও দিয়েছেন। মানুষের মন জয় করার কর্মসূচি নিতেও বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় থাকি। নেতা-কর্মীদের মনে প্রশ্ন ভোট কবে? তাঁরা আমাদের কাছে সঠিক সময়টা জানতে চান। আমরা বলি ডিসেম্বরে। কিন্তু যাঁরা সরকারে আছেন তাঁরা বলছেন ডিসেম্বরে না হলে আগামী জুনে। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ হতাশ। বিগত ১৫ বছরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে। চায়ের স্টল থেকে শুরু করে সর্বত্র একটাই আলোচনা-ভোট কবে? আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোট দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণ করবেন। ’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রায় দেড় দশক মানুষ ভোট প্রদানের কোনো সুযোগ পায়নি। মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। সে ভোটটা কবে হচ্ছে, দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে জানতে চাচ্ছে। বিশেষ করে এবারের ঈদে সবার মুখে মুখে প্রশ্নটি ছিল। সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ করেছেন নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার নিজ এলাকায় দীর্ঘ ১০ বছর পর ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। চট্টগ্রামে ঈদ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস রাজধানীতে ঈদ উদ্যাপন করেছেন। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নিতে দেখা গেছে নেতাদের।
এ ছাড়া চট্টগ্রামে ঈদ করেছেন বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, লায়ন আসলাম চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দিন। রাজশাহীতে ঈদ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। নাটোরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। বরিশালের গৌরনদীতে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ জামাল হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার নিজ এলাকা মৌলভীবাজারে দলীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কুমিল্লা ও নিজ জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরে ঈদে বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাজধানীতে ঈদ উদ্যাপন করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম সোমবার দুপুরে ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম নিজ জেলা পঞ্চগড়ে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লায় ঈদ উদ্যাপন করেছেন।