অনলাইন জুয়ার সাইট খুলে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।
সেখ রাসেল, ব্যুরো চিফ, খুলনা।
অনলাইন জুয়ার সাইট, ক্যাসিনো খুলে হাতিয়ে নিয়েছে, নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অবৈধ অর্থ ও ক্ষমতার দাপটে ধরা ছোয়ার বাইরে। এলাকার উঠতি বয়সের পড়ুয়া যুবকরাই জুয়া খেলার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রলোভনের ফাদে পড়ে প্রতারণার স্বীকারে হয়েছে নিঃস্ব। এক সময় অনেকেরই দুই বেলা খাবার জুটতো না। তারা যুবকদেরকে ফাঁদে ফেলে বনেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। সেই অর্থ দিয়ে কেউ করছে স্বর্ণের ও হুন্ডির ব্যবসা, কেউ কিনছে বিভিন্ন শহরের নামি দামী জায়গায় ফ্ল্যাট ও বাড়ী। দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থা যেন নির্বাক ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিদিনের ন্যয় সূর্য উঠছে স্বাভাবিক নিয়মে, অস্তও যাচ্ছে যথানিয়মে। কিন্তু এর মাঝেই সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা। একদল যুবক যুবতীরা অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে নিজেরা হচ্ছে নিঃস্ব, পঙ্গু করে দিচ্ছে পরিবারকে, সমাজ ও রাষ্ট্রকে করছে ক্ষতিগ্রস্ত। জুয়ার টাকা সংগ্রহে এসব বেকাররা নেমে পড়েছে নানা ধরনের সামাজিক অপরাধে। সংসারে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানের সাথে লেগে থাকছে ঝগড়া-বিবাদ।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্মার্ট ফোনে নির্ধারিত কয়েকটি অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে জুয়া খেলা চলে। এসব অ্যাপে কম টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু করা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যুবক জানান তাদের অনেক বসেরাই বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে জুয়া খেলে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক, কিনেছেন বিলাস বহুল বাড়ী ও গাড়ী। কেউ বা করছেন নামী দামী ব্রান্ডের গাড়ীর ব্যবসা। জুয়াটা সম্পূর্ণ একটা প্রতারণা, জুয়ায় বড় অংকের টাকা লুফে নিতে আগ্রহী করতে প্রথম দিকে কিছু টাকা জিতিয়ে তৈরি করা হয় লোভের ফাঁদ। অনলাইনে জুয়ার টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো দেশীয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলো (এমএফএস)। এছাড়া ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমেও পেমেন্ট করার সুযোগ থাকায় দৌরাত্ম বাড়ছে বিদেশি প্রতারক চক্রগুলোর।
অবাধ তথ্য-প্রযুক্তির নেতিবাচক সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনলাইনে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যাসিনো অপরাধের বিরাট এ সাম্রাজ্য। পদে পদে দেওয়া হচ্ছে লোভনীয় অফার। যেগুলো মূলত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ। সেই ফাঁদে পা দিয়ে পড়া শুনা কাজ কর্ম ফেলে খেলছে জুয়া, ধ্বংস হচ্ছে আপনার আমার সন্তান ভাই বোন আত্মীয় স্বজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাকোপ বটিয়াঘাটার যুবকেরা ধ্বংস হচ্ছে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসায়। এসব এলাকার যুবকেরা রাত ৮ টা থেকে রাত ভর মোবাইলে এ ভয়াবহ গেম খেলে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এদের রয়েছে বড় বড় মাপের আপ লাইন, যারা ইতি মধ্যে বনেছেন কোটি কোটি টাকা। ইতো মধ্যে কয়েকজন ছিটকে জুয়ারীরা ধরা পড়েছে।