ইসলামপুরে পিআইও খবিরুজ্জামান খানের দায়িত্বহীনতায় বিভিন্ন প্রকল্পের বেহাল অবস্থা # প্রকল্প শুধু কাগজে কলমে!

ওসমান হারুনী,জামালপুর প্রতিনিধি;
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চলতি অতিরিক্ত দায়িত্বে পিআইও মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খানের দায়িত্বহীনতায় প্রকল্পের সঠিক তদারকি ও মাঠ পর্যায়ে কাজের বাস্তবায়ন না হওয়ায় মুজিব কিল্লা, টিআর,কাবিখা,কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান ইসলামপুর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার শুন্য পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে সপ্তাহে দুই/একদিন হঠাৎ এসে শুধু কাগজে কলমে প্রকল্পে বাস্তবায়নে ফাইল সই স্বাক্ষর করে হাতিয়ে নিচ্ছেন তার পিসি। পিসি ছাড়া কোন প্রকল্পের ফাইল ও বিলে তিনি স্বাক্ষর করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইসলামপুর উপজেলায় কাবিটা প্রকল্পের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ১ম ও ২য় টিআর প্রকল্পের জন্য ১কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪০৮টাকা এবং
কাবিখা প্রকল্পের জন্য ১৩৫ টন চাল এবং১৩৫ টন গম বরাদ্দ আসে। এতে করে টিআর ও কাবিটা মোট ৩কোটি ৮৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৪৯ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এছাড়াও চাল ১৩৫মেট্টিক টন ও সমপরিমান ১৩৫মেট্টিক টন গমও বরাদ্দ রয়েছে।

এসব বরাদ্দের ১ম পর্যায়ে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৫ মার্চ শনিবার। ২য় পর্যায়ের কাজের মেয়াদ চলমান থাকলেও বাস্তবে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার এই সব বরাদ্দের প্রকল্পের কাজের মাঠ পর্যায়ে কোন অস্তিত্ব নেই। ফলে উপজেলায় কোথাও কোনো প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নোটিশ বোর্ডে উপজেলা তার কার্যলয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের তালিকা টানানোর নিয়ম থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের এখনো কোন প্রকল্পের তালিকা নেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে। পিআইও খবিরুজ্জামান খান অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে তিনি শুধু তার আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।
এছাড়াও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খবিরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি এই উপজেলা চলতি দায়িত্ব পেয়েই তার পিসি হাতিয়ে নিয়ে এই উপজেলা বাস্তবায়নাধী মুজিব কিল্লা প্রকল্পের বিলে স্বাক্ষর দিয়ে ঠিকাদারের নিকট হাতিয়ে নিচ্ছেন তার পিসি।
জানা গেছে , মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তায়নে জিওবি প্রকল্পের অর্থায়নে জেলার ইসলামপুর উপজেলায় ইসলামপুরে কুলকান্দি হেদায়েতিয়া আলিম মাদরাসা ও চিনাডুলী আফরোজা ফরিদ সুরুজ্জামান টেকনিক্যাল কলেজ এবং বলিয়াদহ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্নসজ তিনটি মুজিব কিল্লা নির্মাণ কাজ চলমান। প্রায় সাত কোটি টাকা চুক্তি মূল্যে প্রতিটি কিল্লা নির্মাণ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং ইঞ্জিনিয়ারসহ দায়িত্বরতরা ঠিকাদারের আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্প গুলির সঠিক তদারকি না করে অফিসে অবস্থান করেই প্রকল্প তদারকি করছেন। ফলে ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা প্রকল্পের কাজ করছে।
এব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা দায়িত্ব প্রাপ্ত পিআইও খবিরুজ্জামান খানের সাথে কথা হলে তিনি উপরোক্ত অভিযোগ গুলির কোন সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তবে এই উপজেলার প্রথম ও ২য় পর্যায়ে টিআর,কাবিখা ও কাবিটা কাজ যথা সময়ে শুরু না হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঈদের পর কাজ শুরু করা হবে। আগামী ৩০জুনের মধ্যে দেখবেন কাজ হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *