বন্দর বাজারে কথিত ওষুধ ও ক্লিনিক ব্যবসায়ী কালামকে রুখবে কে?
বন্দর প্রতিনিধি
বন্দর বাজার এলাকার ভেজাল ওষুধ বিক্রির মূল ঘাটি হচ্ছে কেয়া সার্জিক্যাল হাউজ। সেবা দানের নাম করে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জণ কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কথিত কেয়া জেনারেল হাসপাতালের নামধারী মালিক আবুল কালাম দীর্ঘ দিন ধরে নির্বঘ্নে এসব ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বেশি মুনাফার লোভে কালাম বিভিন্ন অখ্যাত মেডিসিন কোম্পানী ওষুধ কেয়া সার্জিক্যাল হাউজ,কেয়া ড্রাগ হাউজ ও অভিজিৎ ড্রাগ হাউজসহ নামক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্দর বাজার এলাকার সৈয়দ প্লাজার দেদারছে বিক্রি করে যাচ্ছে। কথিত ক্লিনিক ব্যবসায়ী আবুল কালাম তার ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রেও এ সকল নিন্ম মানের ওষুধ রোগীদের কাছে বিক্রি করে আসছেন। এ সকল অখ্যাত কোম্পানী ওষুধ ক্রয় করে সাধারণ মানুষের কোন উপকারে না এলেও আবুল কালাম রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছেন। অবৈধভাবে আয়ের উৎস্য গড়ে তোলায় আবুল কালামের নামে-বেনামে অসংখ্য ক্লিনিক ও ওষুধ বিক্রির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তার ওই সকল ওষুধ বিক্রির প্রতিষ্ঠানের ড্রাগ লাইসেন্স থেকে শুরু করে ওষুধ প্রশাসনের ইনভয়েস তালিকাও পাওয়া যায় না। এরূপ গুরুতর অভিযোগ স্বত্ত্বেও বন্দর উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিরব। জনস্বার্থে কথিত ক্লিনিক ও ওষুধ ব্যবসায়ী কালামের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আশু কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বন্দরের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ জোরদাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিয়া শহীদ জানান,এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। এরা মানুষের সরলতাকে পূঁজি করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। এদের কাছে মানুষের সেবার চেয়ে টাকা ইনকামটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই আমি মনে করি বন্দর উপজেলা প্রশাসনের বিষয়টি অতীব গুরুত্ব সহকারে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অন্যথায় এতদ অঞ্চলের মানুষ সর্বদাই এইসকল কালাম প্রকৃতির অর্থলোভীদের কবলে পড়ে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।
বন্দরে ৫ মাসের বকেয়া ভাড়া চাওয়ায় আ’লীগের
সাবেক মহিলা কাউন্সিলরের বোন পরিচয়দানকারী
আরমিন পেটালো বাড়ীওয়ালীকে
বন্দর প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আওয়ামীলীগের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর শিউলী নওশাদের বোন পরিচয়দানকারী আরমিন কর্তৃক বাড়ীওয়ালাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ৫ মাসের বকেয়া ভাড়া চাওয়ায় বাড়ীওয়ালা খোরশেদা বেগমকে মারধর করে বলে ওই অভিযোগে প্রকাশ। এ ঘটনায় আহত বাড়ীওয়ালা খোরশেদা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,বিবাদী আরমিন আক্তার (৪০), পিতা- আহসান উল্লাহ, সাং- সোনাকান্দা, থানা- বন্দর জেলা- নারায়ণগঞ্জ। সে গত সেপ্টেম্বর মাসের এক তারিখ আমার বাড়ির দ্বিতীয় তালার পূর্ব দিকের ফ্লাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে। ওঠার আগে নেই দুই মাসের অগ্রিম ভাড়া দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু তার ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে তাহা দিতে বিলম্ব হবে বলে। এরমধ্যে সে ফ্ল্যাট বাসা বসবাস করতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যে তাহার কিছু অস্বাভাবিক গতিবিধির লক্ষ্য করা যায় সে এলাকার মাদকাসক্ত ছেলেদের নিয়ে ফ্লাটে আড্ডা জমায়। এর মধ্যেই পাশের ফ্ল্যাটের নগদ অর্থ, বেন্ডার, ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ছাদের কবুতরসহ খাঁচা এবং বিভিন্ন ফ্ল্যাটের জুতা চুরি হয়। এছাড়াও আশেপাশের বাড়ি ও আমার অন্যান্য ফ্ল্যাট থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আসতে থাকে এবং উক্ত বিবাদীর কারণে কিছু ভাড়াটিয়া বাসা ছেরে চলে যায়। ফলে মেয়ের জামাই আশরাফ রহমান তাকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ভাড়া পরিশোধ করতে বলা হয়। এইসময় আমার মেয়ের জামাই ফ্লাইটের ডেট পড়ে যাওয়ায় সৌদি আরব চলে যায়। এরপর কয়েকবার আমি বাসা ভাড়া চাহিতে যাই, প্রত্যেক বারই সে আমার সাথে উত্তেজিত হয়ে কথা বলে। পরে আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের তার কাছে পাঠালে সে জানুয়ারিতে ফ্লাট ছেড়ে দিবে বলে জানায়। কিন্তু জানুয়ারিতেও সে ফ্লাট ছাড়েনি। কিন্তু উক্ত বিবাদী এখন পর্যন্ত আমার মেয়ে জামাইয়ে বাসা ছারেনি। এভাবে পরপর যাবে যাচ্ছে বলে আমাকে হয়রানি করেছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে টাকা চাওয়ায় সে ধারালো বটি নিয়ে আমাকে তেড়ে আসে এবং গালিগালাজসহ ভাড়া চাইলে কুপিয়ে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এরপর থেকেই এলাকার মাদকাসক্তদের জয় ভিত্তি প্রদান করতে থাকে সে নাকি ভাড়াও দেবে না এবং বাড়িও ছাড়বে। আমরা নিচের তালায় বসবাস করি। তার সূত্র ধরে বিবাদী আমাদের রাত হলে সিরির লাইট ও বাসার দরজা বাহির দিয়ে আটকিয়ে রাখে এবং মেইন গেটে ব্যাক্তি তালা ব্যবহার করে। এখন পর্যন্ত বিবাদী কাছে বাসা ভাড়া বাবদ ১৫ হাজার পাওনা আছি। এমতাবস্থায় আমার পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিষয়টি আমার নিকট আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সহিত আলাপ-আলোচনা করে আপনার থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হইল।
আজ সাবেক এমপি কমান্ডার সিরাজুল
ইসলামের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী
নিজস্ব সংবাদদাতা:
আজ ২৩ মার্চ সোমবার মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,২নং সেক্টর কমান্ডার,নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক তথা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে মরহুমের টানবাজারের মিনাবাজারের বাস ভবনে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে দিনব্যাপী পবিত্র কোরআন খান,বাদ মাগরিব হত দরিদ্রদের মাঝে ইফতার পরিবেশন এবং পরিশেষে মরহুমের বিদেহী রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান। দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মরহুমের কণ্যা নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সামিয়া ইসলাম নেভিনা এবং তার জামাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাতি খন্দকার মাহমুদুল হাসান আরমান সকলের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম সিরাজ: এক সাহসী নেতার জীবন ও সংগ্রাম
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম—বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। দেশপ্রেম, সংগ্রাম, ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা নারায়ণগঞ্জ তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রারম্ভিক জীবন ও ছাত্র রাজনীতি
সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী মানসিকতার অধিকারী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জের প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি জাতির সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহকুমার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সাহসিকতা, কৌশল ও দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ ছিলেন তিনি। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেন, যা শত্রুবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়।
স্বাধীনতার পর ও রাজনৈতিক জীবন
স্বাধীনতার পরও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ দেশের কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা প্রথম যুগ্ম সম্পাদক। এছাড়া, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল জনগণের সেবা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার সততা, কর্মনিষ্ঠা ও জনসেবার কারণে তিনি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু
সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ছিলেন একজন সৎ, নীতিবান ও জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত নেতা। ২০১২ সালের ২৩ মার্চ তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশ এক সংগ্রামী, দেশপ্রেমিক ও জননেতাকে হারায়।
আজ তার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।
সিরাজুল ইসলাম সিরাজ কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা বা মুক্তিযোদ্ধা নন, তিনি ছিলেন গণমানুষের প্রিয় নেতা, যিনি সারাজীবন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়ে গেছেন। তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তার আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।