বরিশাল ও রায়পুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২২
সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক, অনলাইন ডেস্ক:
বরিশালের হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আলীগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। একই দিন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হায়দারগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধুলখোলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আ. রাজ্জাক ও সগির আহমেদ সিকদারের সমর্থকদের সঙ্গে ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ মৃধা ও খবির রাঢ়ীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের পার্টি অফিসসহ ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর হয়। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আ. রাজ্জাক জানান, হারুন মৃধা ও খবির রাঢ়ীর লোকজন ফারুক রাঢ়ীকে মারধর করলে তিনি বাধা দিতে গেলে তার বাড়ি ও পার্টি অফিসে হামলা হয়। অন্যদিকে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম মাঝি বলেন, রাজ্জাক সরদার ও সগির সিকদারের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হিজলা থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানানÑ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তবে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফেসবুকে একটি পোস্টে মন্তব্য নিয়ে উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল বাছেদ হাওলাদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সর্দারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। মিজানুর রহমান সর্দার জানান, তারা আওয়ামী লীগ ও মাদকের বিরুদ্ধে মিছিল করছিলেন, কিন্তু বাছেদ হাওলাদারের লোকজন হামলা চালয়। অন্যদিকে বাছেদ হাওলাদারের ছেলে লিটন হাওলাদার দাবি করেন, তার বাবার নামে ফেসবুকে মন্তব্য করায় প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা হয়। রায়পুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু জানান, হাওলাদার ও সর্দার পরিবারের দীর্ঘ দিনের বিরোধের কারণে এ সংঘর্ষ হয়েছে, এটি দলীয় বিরোধ নয়। হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, সংঘর্ষের পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে, তবে এখনও কেউ মামলা করেননি।