ডাকাতি চেষ্টাকালে চৌগাছার আলোচিত কাউন্সিলর মোস্তফাসহ তিনজন আটক
অপরাধ তথ্যচিত্র ডেস্ক:
চৌগাছা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফাকে এবার ডাকাতি চেষ্টাকালে তিন সহযোগীসহ আটক করেছে ডিবি পুলিশ। রোববার মধ্যরাতে শহরতলীর শেখহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ম্যাগজিন ভর্তি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিং এ এই তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মুখপত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকি। আটকরা হলেন চৌগাছার বিশ^াসপাড়ার মগরেপ আলীর ছেলে কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, যশোর সদর উপজেলার নতুন খয়েরতলার মৃত মোজাহার মন্ডলের ছেলে মিজানুর রহমান, চুড়ামনকাঠি গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ আহম্মেদ ও চৌগাছা পুড়পাড়ার আবু খায়েরের ছেলে রকি বিশ^াস। তাদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান বিশেষ একটি বাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন।
গোলাম মোস্তফা ২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতে যেয়ে সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা বাইগুনি গ্রাম থেকে চার সহযোগীসহ র্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন। সেসময় তাদের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি, ডিবির পোষাক, হ্যান্ডকাপ, পুলিশের আইডিকার্ডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকি জানান, তাদের কাছে খবর আসে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অস্ত্র নিয়ে শেখহাটি এলাকায় অবস্থান করে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাৎক্ষনিক ডিবির এসআই শাহিনুর রহমান ও এসআই বিপ্লব সরকারের সমন্বয়ে একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়।পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে তিনচারজন পালিয়ে যান অপর চারজনকে হাতে নাতে আটক করা হয়। আটকের পর আসামিরা জানান, তারা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকি আরও জানান, আটকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ ও মাদকের মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একইসাথে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিবির ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ দেবব্রত হরি।
এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানায় ২০ বছর আগে বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধরা পরে গোলাম মোস্তফা চাকরিচ্যুত হন।
চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছেন কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা। আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার সুবাধে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেতেন না। এরমাঝে তিনি সাতক্ষীরা থেকে র্যাবের হাতে আটক হন। কারাগার থেকে বের হয়ে ফের বেপোরোয়া চলতে থাকেন তিনি।