৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে বৃহস্পতিবারও রাজধানী ঢাকাকে অবরুদ্ধ-অচল করে দেয়া হবে। বুধবার (০১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে পরবর্তী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। আন্দোলনকারীদের পক্ষে হাসিব হাসান নামে এ শিক্ষার্থী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া শাহবাগেও অবস্থান নেবো আমরা। সকল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইদের বলতে চাই আপনারা আগামীকাল সবাই শাহবাগে চলে আসবেন। যদি দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের দাবি না মানা হয় তবে পুরো ঢাকা অচল করে দেয়া হবে।’আরেক শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘যতোই ঝড়-বৃষ্টি আসুক না কেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না। আমাদের ৯ দফা দাবি যতক্ষণ পর্যন্ত মেনে নেয়া না হবে, ততক্ষণ আমরা শাহবাগ ছাড়বো না।’শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ফেসবুকে উই ওয়ান্ট জাস্টিস নামে একটি গ্রুপ খোলা হবে। সেখানেই সব ঘোষণা দেয়া হবে।বিকেল ৩টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে আন্দোলনকারীরা ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার পর শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর আগে প্রবল বৃষ্টিতেও শিক্ষার্থীরা স্লোগ্লানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে শাহবাগ। আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা শাহবাগে বসেছি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। প্রধানমন্ত্রীর ভাইয়ের বিচার এদেশে হলে আমাদের ভাইয়ের বিচারও এ দেশেই হবে ইনশাআল্লাহ।এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ইউ ওয়ান্ট জাস্টিস,’ ‘বিচার করো করতে হবে,’ ‘বিচার না হলে ঘরে ফিরে যাবো না,’ ‘নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে, করতে হবে,’ ‘আমাদের দাবি ৯ দফা না মানলে ঘরে ফিরবো না’-এরকম নানা স্লোগান দেন।গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর হোটেল র্যাডিসনের বিপরীত পাশের জিল্লুর রহমান উড়ালসড়কের ঢালের সামনের রাস্তার ওপর জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম ওরফে মীম (১৬) নিহত হয়। ঘটনার রাতেই নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট একটি থানায় মামলা দায়ের করেন।এ ঘটনায় বুধবার টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর, পল্টন, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর, তেজগাঁও, রামপুরা, টঙ্গি, উত্তরা, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগের দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে। সকাল থেকেই রাজধানীর প্রায় সব পথ অবরুদ্ধ করে ফেলায় চরম দুভোর্গে পড়ে কর্মজীবী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ।